Articles by "যুক্তরাষ্ট্র"
অর্থনীতি অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া-ক্রিকেট-দল আওয়ামী-লীগ আদালত আন্তর্জাতিক আন্দোলন আরো আর্থিক-খাত ইরফান-খান ইসলামীক উদ্যোগী-নারী এশিয়া এসএসসি-পরীক্ষা করোনা বাংলাদেশ করোনা-বিশ্ব করোনাভাইরাস ক্রিকেট খুলনা-বিভাগ খেলা খেলাধুলা গোপালগঞ্জ চাকরি চাকরিবাকরি চাকরির-খবর চিকিৎসা চীন চুরি ছাত্রদল জগন্নাথপুর জয়পুরহাট জাতিসংঘ জাতীয় জাতীয়-পার্টি জো-বাইডেন ঝালকাঠি টি-টোয়েন্ট-বিশ্বকাপ টিকা টেবিল-টেনিস ডোনাল্ড ট্রাম্প ঢাকা-বিভাগ ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয় তথ্যপ্রযুক্তি তথ্যমন্ত্রী তারকা নারী নিউজিল্যান্ড নিয়োগ নেইমার পরিবেশ পাইলসের-সমস্যা-১০-উপায় পাকিস্তান পানি পিএসজি পিএসসি পেশা পোশাক প্রযুক্তি প্রযুক্তি-পণ্য ফুটবল ফ্যাশন বগুড়া বরিশাল বরিশাল-বিভাগ বাংলাদেশ বাংলাদেশ-ভারত-সম্পর্ক বাণিজ্য বাবুগঞ্জ বিএনপি বিনিয়োগ বিনোদন বিয়ে বিরাট-কোহলি বিশেষ-সংবাদ বিসিএস ব্যাংক ভর্তি-পরীক্ষা ভারত ভোটাররা-কেন্দ্রে-যেতে-পারলে মতামত যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র-নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রে রংপুর রাজনীতি রাজশাহী-বিভাগ রোহিঙ্গা শাবনূর শিক্ষা শেয়ারবাজার সড়ক-দুর্ঘটনা সযুক্তরাষ্ট্র সরকারি-চাকরি সাকিব-আল-হাসান সিনেমা সিলেট-বিভাগ সোনালী-ব্যাংক স্বাস্থ্য হামলা হাসপাতাল


মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যের বদলে ভূমধ্যসাগরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। ইউক্রেন সীমান্তে হাজার হাজার রুশ সেনা মোতায়েন নিয়ে তৈরি হওয়া আশঙ্কায় এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যান এবং এর সঙ্গে থাকা পাঁচটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সময়সূচি বদলের মাধ্যমে ইউরোপে অবস্থান ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা প্রতিফলিত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ওই অঞ্চলের মার্কিন মিত্র ও সহযোগীদের আশ্বস্ত করতে এটা প্রয়োজন রয়েছে।

সম্প্রতি ইউক্রেন সীমান্তে সেনা সমাবেশ বাড়াতে শুরু করে রাশিয়া। সর্বোচ্চ দশ হাজার পর্যন্ত সেনা সমাবেশ ঘটায় মস্কো। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা আশঙ্কা করে যে, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপত্যকা দখল করে নেয় রাশিয়া। এরপরেই সেটিকে তাদের সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেয়। সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ওই সংঘাতে ১৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চল।

ইউক্রেনে নতুন কোনও আগ্রাসন চালানোর কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া। এর বদলে তারা অভিযোগ তুলেছে মস্কো সমর্থিত বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি পুনরুদ্ধার করতে শক্তি ব্যবহারের চেষ্টা করছে ইউক্রেন। তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউক্রেন।

মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যান এর বহরে রয়েছে পাঁচটি জাহাজ। এর মধ্যে ক্রজার ইউএসএস স্যান জ্যাসিন্টো এবং গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস কোলে, ইউএসএস বেইনব্রিজ, ইউএসএস গ্রেভলি এবং ইউএসএস জ্যাসন ডানহাম রয়েছে।

ট্রুম্যান গত ১ ডিসেম্বর ভার্জিনিয়ার নরফোলক বন্দর ছেড়ে যায় এবং ১৪ ডিসেম্বর ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করে। এটির পারস্য অঞ্চলে থাকার কথা ছিল।



মার্কিন এক পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হয় ১৪ বছর বয়সী এক শিশু। পরবর্তীতে ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে মায়ের কোলে। যুক্তরাষ্ট্রের লজ এঞ্জেলেসে ঘটেছে এই ঘটনা। 

বিবিসির অনলাইন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৩ ডিসেম্বর ভ্যালেন্টিনা ওরেলানা-পেরাল্টা নামের ওই শিশু মায়ের সঙ্গে এক কাপড়ের দোকানে ছিলেন। এসময় পুলিশ সন্দেহভাজনকারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। পুলিশের বুলেট দেয়ালে লেগে উল্টো ওই শিশুকে বিদ্ধ করে। 

ওই শিশুর মা সোলেদাদ পেরাল্টা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার বিবরণ দেওয়ার সময় বলেন, সেসময় তিনি তার শিশুকে বাঁচানোর জন্য পুলিশদের হাতজোড় করে অনুরোধ করেন, কিন্তু তারা তাদেরকে ফেলে চলে যায়। 

এক আইনজীবীর পড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পেরাল্টা বর্ণনা করেছেন তিনি এবং তার মেয়ে চেঞ্জিং কক্ষের বাইরে হৈচৈ এবং চিৎকার শুনতে পান। এরপর তারা বসে পরেন এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরে প্রার্থনা শুরু করেন। 

পেরাল্টা বলেন, এরপর তিনি বুঝতে পারেন তার মেয়েকে কিছু একটা বিদ্ধ করেছে যাতে করে তারা দুইজনে ফ্লোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

তিনি আরো বলেন, এসময় তার মেয়ে ভ্যালেন্টিনার শরীর 'নিস্তেজ' হয়ে পরে এবং তিনি তাকে ঝাঁকুনি দিয়ে জেগে ওঠাতে চেষ্টা করেন, কিন্তু সে আর জেগে উঠেনি। 

পেরাল্টা বলেন, তার বাহুতে মেয়ের মৃত্যু হয়। এসময় সাহায্যের জন্য তিনি চিৎকার করেছেন কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি।

'শেষমেশ যখন পুলিশ আসে তারা ড্রেসিং রুম থেকে আমাকে বের করে নেয় এবং আমার মেয়েকে সেখানে শোয়া অবস্থায় থাকে। আমি তাদেরকে সাহায্যের জন্য বলেছি,কিন্তু তারা তাকে একাকি অবস্থায় ফেলে আসে', বলেন তিনি।  

লস এঞ্জেলস পুলিশের প্রধান মাইকেল মুর এই ঘটনাকে 'বিশৃঙ্খল ঘটনা' উল্লেখ করে এর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্বচ্ছ তদন্তের অঙ্গীকার করেছেন।   


বাংলাদেশে ২০১৫ সালে ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে ‘মেজর জিয়া’ এবং আকরাম হোসেনের ব্যাপারে তথ্য দেওয়ার জন্য ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৪৪ কোটি টাকা) পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

এ তথ্য জানিয়ে প্রকাশ করা একটি পোস্টারে বলা হয়, ‘২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একটি বইমেলা থেকে বেরিয়ে আসার সময় আল-কায়েদাভিত্তিক সন্ত্রাসীরা মার্কিন নাগরিক অভিজিৎ রায়কে হত্যা এবং তার স্ত্রী রাফিদা বন্যা আহমেদকে আহত করে।’

এতে বলা হয়, ‘ওই হামলার জন্য বাংলাদেশের একটি আদালতে ছয় জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়েছে। আসামিদের দুজন—সৈয়দ জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেনের অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছিল এবং তারা এখনও পলাতক।’

অভিজিৎ রায় ও বন্যা আহমেদ (ছবি সংগৃহীত)


পোস্টারে বলা হয়েছে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কারও সম্পর্কে আপনার কাছে কোনও তথ্য থাকলে, নিচের নম্বরটিতে সিগন্যাল, টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তথ্য পাঠান। সেক্ষেত্রে আপনিও পুরস্কার পেতে পারেন’।

ফোন নম্বরটি হলো: +1-202-702-7843 এবং @RFJ_USA নামে একটি টুইটার হ্যান্ডেলও দেওয়া হয়েছে।

পোস্টারের শিরোনামে বলা হয়, ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তথ্যের জন্য।’

পোস্টারের নিচে বাঁদিকের কোনায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নাম ও প্রতীক, ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস ও রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিসের নাম রয়েছে।

রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস হচ্ছে সন্ত্রাস দমনে ভূমিকার জন্য পুরস্কার দেওয়ার লক্ষ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একটি কর্মসূচি।

এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ব্যক্তি বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা।

এ পর্যন্ত আরএফআই শতাধিক লোককে মোট ১৫ কোটি ডলারেরও বেশি পুরস্কার দিয়েছে। খবর বিবিসির


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মঙ্গলবারের ভিডিও কলে কথা বলার পর নতুন কোনো বোঝাপড়া কি আদৌ হয়েছে - নাকি ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযানের হুমকি দুদিন আগে যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেছে?

এক কথায় উত্তর - একটি ফোন বা ভিডিও কলে জটিল এই সমস্যার সমাধান হবে না।

বরং পুতিন ভিডিওকলে বাইডেনের সাথে আলোচনা থেকে কি অর্জন করলেন এবং সেই সাথে আগামী কয়েক দিন বা সপ্তাহে তিনি কি সিগন্যাল নিজে দিচ্ছেন বা পাচ্ছেন - সবকিছুই নির্ভর করবে তার ওপর।

ইউক্রেন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি যে খুবই গুরুতর- তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া যে সংখ্যায় সৈন্য এবং অস্ত্র জড় করেছে তার নজির সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা নেই।

মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের সূত্রগুলো বলছে আগামী বছরের শুরুতেই রাশিয়া একাধিক ফ্রন্টে ইউক্রেনে হামলা শুরু করতে পারে। এবং ওই অভিযানে ১ লাখ ৭৫ হাজার রুশ সৈন্য অংশ নিতে পারে।

রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর পশ্চিমা বিশ্বের যে কজন বিশেষজ্ঞ গভীরভাবে নজর রাখেন তাদের অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস সেন্টার ফর ন্যাভাল অ্যানালাইসিসের গবেষক মাইকেল কফম্যান। তিনি বলছেন, ইউক্রেন নিয়ে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে - তা ভিত্তিহীন নয়।

কফম্যান বলেন, ‘যদিও রাশিয়া সৈন্য সমাবেশ ঠিক কেন করছে তা একশভাগ ধারণা করা সম্ভব নয়, কিন্তু যেটা বিশেষভাবে লক্ষণীয় তা হলো সেনা সমাবেশের মাত্রা। সৈন্য সংখ্যা এতই যে লড়াইয়ের সময় একটি এলাকা দখলের পর তা যেন সাথে সাথে পেছনের আরেকটি সেনাদল গিয়ে দখলে রাখতে পারে - তেমন পরিকল্পনারও আলামত দেখা যাচ্ছে।’

‘ফলে সামরিক অভিযানের কথা মাথায় রেখেই যে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে - তার লক্ষণ অনেক। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের (শেষবার রাশিয়া যুদ্ধের জন্য যে সেনা সমাবেশ করেছিল) মোতায়েনের সংখ্যা যোগ করলেও তা এখনকার সেনা সমাবেশের সমান হবে না।’

‘শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাব্য তিনটি ফল’

কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে আয়োজন করা রুশ-মার্কিন এই শীর্ষ বৈঠকের ফল কি হতে পারে?

সাধারণভাবে বলতে গেলে তিন ধরনের ফলাফল দেখা যেতে পারে - এক, পশ্চিমা কয়েকটি শক্তির কাছ থেকে একযোগে দেয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে রাশিয়া পিছু হটতে পারে।

অথবা দুই, সংঘাত এড়াতে নতুন এবং দীর্ঘ একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। অথবা তিন, যুদ্ধের আশংকা সত্যে পরিণত হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন হয়তো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন ইউক্রেনে তিনি যে উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছেন তা শুধু সামরিক পথেই অর্জন সম্ভব। রুশ প্রেসিডেন্ট হয়তো সত্যিই ভাবছেন চলতি শীতে ইউরোপের দেশগুলো যে কঠিন জ্বালানি সংকটে পড়েছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন দেশের ভেতর দুর্বল ইমেজ নিয়ে যেভাবে হিমশিম খাচ্ছেন এবং কোভিড প্যানডেমিক এখনো যেভাবে বিপর্যয় তৈরি করে চলেছে, তাতে লক্ষ্য হাসিলের এখনই মোক্ষম সময়।

১. পুতিন পিছিয়ে যাবেন

এমন সম্ভাবনা বাকিগুলোর তুলনায় সবচেয়ে কম। পুতিন তার সৈন্যদের সীমান্তে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এখন কোনো এক ধরনের বিজয় অর্জন ছাড়া তারা ব্যারাকে ফিরবে না।

দেশের ভেতর এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে পুতিনের। ফলে, কোনোরকম দুর্বলতা প্রকাশ হোক - এমন পথে তিনি যাবেনই না।

ইউক্রেন এবং রাশিয়ার ‘অভিন্ন ইতিহাস ও গন্তব্য’ নিয়ে তিনি যেসব বক্তব্য সম্প্রতি পুতিন দিয়েছেন - তাকে অনেকেই হয়তো অসার বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু ইউক্রেন নিয়ে তার সত্যিকারের কিছু উদ্বেগ রয়েছে।

শুধু যে ন্যাটো সামরিক জোটে ইউক্রেনের প্রবেশ নিয়ে তিনি চিন্তিত তা নয়। ঘরের দোরে একটি দেশে পশ্চিমা ধাঁচের একটি শক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষণ এবং তার পরিণতি নিয়েও তিনি হয়তো অস্বস্তিতে পড়েছেন।

আমেরিকা এবং ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকিও হয়তো তাকে ভাবাচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমা এমন নিষেধাজ্ঞা রাশিয়া আগেও সামলেছে। এখন পুতিন হয়তো নিশ্চিত যে রুশ জ্বালানিসম্পদকে ব্যবহার করলে পশ্চিমা শিবিরের ঐক্য ধসে পড়বে।

২. একটি কূটনৈতিক সমাধান

ন্যাটো জোটে সদস্যপদের জন্য ইউক্রেনের সম্ভাব্য আবেদনে ভেটো দেয়ার যে দাবি রাশিয়া করছে তা প্রেসিডেন্ট বাইডেন মানবেন না। কিন্তু বাস্তবে নেটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ পেতে বহু দেরি।

সুতরাং যুদ্ধ এড়াতে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে কিছু কূটনৈতিক সুবিধার প্রস্তাব দেয়া কি হতে পারে? প্রেসিডেন্ট বাইডেন যে তার সাথে সরাসারি কথা বলেছেন - সেটাই পুতিনের জন্য ছোট হলেও একটি কূটনৈতিক বিজয়।

ইউক্রেনে বিভিন্ন সীমান্তে রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশের চাপে ইউক্রেনসহ অন্য কিছু বিষয়ে রাশিয়ার উদ্বেগগুলোকে তার বিদেশ নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে সম্পৃক্ত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাধ্য হয়েছেন।

এ থেকে আবারো প্রমাণিত হলো যুক্তরাষ্ট্র যতই বলুক না কেন যে চীনই এখন তাদের কৌশলগত নীতির কেন্দ্রবিন্দু, - কিন্তু বাস্তবতা আসলে ভিন্ন।

ইউরোপকে অবজ্ঞা করা আমেরিকার পক্ষে এখনো সম্ভব নয়। এবং রাশিয়া চাইলে কিছু সময়ের জন্য হলেও তারা বাইডেন প্রশাসনের কৌশলগত নীতির অগ্রাধিকার অদল-বদল করাতে পারে।

সুপার-পাওয়ারের টেবিলে প্রত্যাবর্তন পুতিনের জন্য একটি ইতিবাচক ঘটনা।

কিন্তু সেটাই কি তার জন্য যথেষ্ট? হয়তো নয়। তবে দুই নেতা জুন মাসে জেনেভায় নতুন করে তাদের মধ্যে কথা শুরু করেন। ফলাফল নিয়ে তারা তখন সন্তোষও প্রকাশ করেছিলেন।

মঙ্গলবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে ইউক্রেন ছাড়াও অন্য আরো কিছু বিষয় তারা কথা বলেছেন - যেগুলো জেনেভায় উঠেছিল । যেমন- কৌশলগত স্থিতিশীলতা, হ্যাকিং এবং ইরানের মতো আঞ্চলিক ইস্যুতে একসাথে কাজ করা।

এসব বিষয় মস্কোর জন্য স্বস্তির - কিন্তু এসব সহযোগিতার মাত্রা কতদূর গড়ালে তা মস্কোর কাছ জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে? পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের রুশ সমর্থিত বিদ্রোহীদের বিষয়ে বা সেখানে লড়াই বন্ধে নতুন কোনো কৌশলের প্রস্তাব কি যুক্তরাষ্ট্র তুলতে পারে? যুক্তরাষ্ট্র কি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে বিষয়টির গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলতে পারে?

সম্ভবত রাশিয়া তাতে খুশিই হবে। কিন্তু তাতে কি ইউক্রেনের সরকার নিয়ে এবং পশ্চিমা বিভিন্ন জোটে যোগ দেয়ার প্রশ্নে ইউক্রেনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে মস্কোর উদ্বেগ-আপত্তি দূর হবে?

মাইকেল কফম্যান মনে করেন, রাশিয়ার সৈন্য প্রত্যাহারের শর্তে ইউক্রেন তাদের লক্ষ্য বদলাবে - এমন কোনো কূটনৈতিক সমাধানের ফর্মুলা কাজ করবে না।

‘সন্দেহ নেই যে চাপ দিয়ে ইউক্রেনকে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করতে চায় রাশিয়া।’ রাশিয়া চায় আমেরিকা এবং ইউক্রেনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং পূর্ব ইউরোপ নেটো জোটের সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।

কফম্যানের কথায়, ‘মস্কো চায় যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেন থেকে পুরোপুরি হাত গোটাতে হবে। কিন্তু তার বিশাল একটি প্রতিক্রিয়া শুধু ইউক্রেনের ওপরই পড়বে না, পুরো ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপরও পড়বে।’

ফলে, তিনি বলেন, এই সমাধান যুক্তরাষ্ট্র বা ইউক্রেন কারো কাছেই কোনোভাবেই গ্রাহ্য হবে না।

আবার একইসাথে, কফম্যান বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক অর্জন ছাড়াই রুশ সৈন্যরা ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ফিরে যাবে, সে সম্ভাবনাও ক্ষীণ।’

৩. রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ

তারা লড়াই শুরু করুক আর নাই করুক, রাশিয়া লড়াইয়ের প্রস্ততি নিচ্ছে। যদি সেনা অভিযান তারা শুরু করে, তাহলে তার মাত্রা নানারকম হতে পারে। বড় মাপের অভিযান হতে পারে।

আবার শুধু ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ সৈন্যরা ঢুকতে পারে কারণ গণ-প্রতিরোধ হতে পারে এমন জায়গায় সেনা অভিযানের অনেক ঝুঁকি থাকে।

এমন একটি লক্ষ্য রাশিয়া নিতে পারে যে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর মূল কমব্যাট অংশকে লড়াইতে নিয়ে আসা এবং তারপর তাদেরকে এমনভাবে পরাজিত করা যাতে কিয়েভের সরকার তাদের মত-পথ পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর হাতে এখন বেশ পশ্চিমা আধুনিক অস্ত্র রয়েছে। পশ্চিমা প্রশিক্ষণও তারা পেয়েছে। ফলে ২০১৫ সালের যুদ্ধের সময়ের চেয়ে তাদের শক্তি এখন অপেক্ষাকৃত বেশি।

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে বড় রকম আধুনিকায়ন হয়েছে। চমকপ্রদ নতুন কিছু অস্ত্র রাশিয়া তৈরি করছে।

এবং ন্যাটো যতই ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমর্থন দিক না কেন, রাশিয়ার সাথে সরাসরি যুদ্ধে তারা লিপ্ত হবে না।

আবার ন্যাটো ইউক্রেনকে বাড়তি অস্ত্র যোগান দিলে সামরিক অভিযানের পক্ষে রাশিয়ার যুক্তি তৈরি হবে।

সৈন্য মোতায়েনের অতীত কিছু অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন কোনো সম্ভাব্য সংঘাতের লাভ-ক্ষতি হয়তো হিসাব করছে রাশিয়া।

পশ্চিমা শক্তিগুলো এখন হয়তো ইরাক এবং আফগানিস্তানে তাদের কৌশলগত পরাজয় নিয়ে মনস্তাত্ত্বিকভাবে মুষড়ে রয়েছে।

কিন্তু রাশিয়ার সাম্প্রতিক রেকর্ড ভিন্ন। জর্জিয়াকে তারা একহাত নিয়েছে। ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রাইমিয়া নিয়ে নিয়েছে। পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্ন অংশের বিদ্রোহীরা তাদেরই সমর্থনপুষ্ট। সেইসাথে সিরিয়াতে তাদের সাফল্য তো রয়েছেই।

পুতিন এসব কিছুকেই বিজয় হিসাবেই বিবেচনা করেন।

যদিও যুদ্ধ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে তারপরও মাইকেল কফম্যান মনে করেন যদি যুদ্ধ বেধে যায়, তাহলে তা একেবারে সংক্ষিপ্ত থাকবে না।

‘আমার মনে হয় ২০১৪ সালের তুলনায় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকভাবে এবং সামরিক শক্তির দিক দিয়ে রাশিয়া এখন একটি যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত। তাদের আগের লড়াইগুলোর তুলনায় এখন তাদের সামনে বাধা অপেক্ষাকৃত কম। যদিও আমি মনে করিনা যুদ্ধ সত্যিই হবে।’

নজর এখন কোন দিকে রাখা উচিৎ

মঙ্গলবারের শীর্ষ বৈঠকের পর মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা তাদের কর্মকর্তাদের ফলোআপ অর্থাৎ আলোচনায় ওঠা ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করতে বলেছেন। অর্থাৎ, ইঙ্গিত যেটা তা হলো তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হলেও, অন্তত কথাবার্তা হয়ত চলবে এবং যোগাযোগের একটি রাস্তা খোলা থাকবে।

কিন্তু তাতে করে যুদ্ধ কি এড়ানো যাবে? অথবা কোনো ইঙ্গিত দেখলে আমরা বুঝতে পারবো যে খুব কোনো সংঘাত হয়তে শুরু হতে যাচ্ছে?

মাইকেল কফম্যান বলছেন, ‘যুদ্ধ হচ্ছে রাজনীতির একটি রূপ। সুতরাং রাজনীতি দেখেই যুদ্ধের সম্ভাবনা আঁচ করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার অবস্থানের বিভিন্ন দিক নিয়ে দেন-দরবারের জায়গা নেই বললেই চলে। ফলে একটি সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া শক্ত।’

সামরিক দিক থেকে বলতে গেলে, হয়তো খুব তাড়াতাড়ি রুশ একটি অভিযান শুরু হবে না। কিন্তু আগামী কদিন না হলেও ক সপ্তাহের মধ্যে তা হতে পারে এমন অনেক আলামত স্পষ্ট। যেভাবে রাশিয়া তাদের সৈন্য মোতায়েন করছে সেটি একটি ইঙ্গিত।

মাইকেল কফম্যান মনে করেন, উত্তেজনা অব্যাহত থাকবে। ‘দেখে মনে হচ্ছে রাশিয়া তাদের সৈন্য সমাবেশে বাড়িয়ে যাবে। যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ, সরঞ্জাম এবং ব্যাকআপ তারা নিশ্চিত করছে।’

সূত্র : বিবিসি

 


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আহ্বানে ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণতন্ত্র সম্মেলন 'সামিট ফর ডেমোক্র্যাসি'র অংশগ্রহণকারীদের আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যে তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে গণতন্ত্র যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, যৌথভাবে সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উদ্দেশ্যে কী ধরণের প্রতিশ্রুতি, সংস্কার পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন - তা নির্ধারণ করার উদ্দেশ্যে এই সম্মেলন।

গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে একটি দেশের সরকারের সাথে নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, মানবাধিকার ও বেসরকারি সংস্থা, মিডিয়ার প্রতিনিধি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করা হবে সম্মেলনে।

ডিসেম্বরের ৯ ও ১০ তারিখ ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই সম্মেলনে মূলত যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে, তা হলো:

  • গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং কর্তৃত্ববাদ প্রতিহত করা
  • দুর্নীতি চিহ্নিত করা ও প্রতিহত করা
  • মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ইতিবাচক প্রচারণা

'গণতন্ত্র সম্মেলন'এর লক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সারা বিশ্বে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি হুমকির মুখে। সরকারের ওপর জনগণের অবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রীতির বিরোধিতা করে - এমন নেতৃত্বের উত্থান হচ্ছে।

এছাড়া ক্রমবর্ধমান আর্থ-সামাজিক অসমতা, দুর্বল আইনের শাসন এবং দুর্নীতির কারণে বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী নেতারা সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের দমন-পীড়ন ও নির্বাচন কারচুপির মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে নিজেদের মডেল প্রতিষ্ঠা করছে -যা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে বলছে এই ওয়েবসাইট।

এসব সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো একত্রিত হয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সাথে নিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে যেন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে এই গণতন্ত্র সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কীসের ভিত্তিতে আমন্ত্র

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ডিসেম্বরে হতে যাওয়া 'সামিট ফর ডেমোক্র্যাসি' সম্মেলনে কেন কিছু দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলভেদে প্রতিষ্ঠিত ও অপেক্ষাকৃত তরুণ গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সম্মেলনের লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে যেসব দেশ অকৃত্রিম আগ্রহ প্রকাশ করবে, সেসব দেশের সাথে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এবং এর বাইরের দেশগুলোর সরকারের সাথে মানবাধিকার বিষয়ক প্রচারণা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই ও গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার কাজ অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র চালিয়ে যাবে বলে এই ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, যেসব দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, কেন তাদের সম্মেলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।

বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ কী বলছে?

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে হতে যাওয়া এই গণতন্ত্র সম্মেলনের প্রথম ধাপে বাংলাদেশ আমন্ত্রিত না হলেও এই বিষয়টি নিয়ে তারা চিন্তিত নয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, "এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত নই আমরা। তাছাড়া এবারই প্রথম এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এর প্রথম ধাপে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সম্মেলনের পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশ আমন্ত্রিত হতে পারে।"

এ বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়া জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মি. মোমেন।

তিনি বলেন, "এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আহ্বানে আয়োজিত জলবায়ু সম্মেলনে মাত্র ৪০টির মত দেশ আমন্ত্রিত ছিল, যার মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। সেখানে তো অনেক দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।"

গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?

বৈশ্বিক ব্যবসায়িক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের ২০২০ সালের গণতন্ত্র সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ 'হাইব্রিড রেজিম' বা মিশ্র শাসনের দেশের তালিকায় রয়েছে।

সাধারণত সেইসব দেশকে হাইব্রিড রেজিম বলে বর্ণনা করা হয় যেসব দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা রয়েছে, কিন্তু সেখানে নিয়মিত নির্বাচন হলেও রাজনৈতিক দমন পীড়নও চলে। অর্থাৎ এসব দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা রয়েছে।

সংস্থাটির ২০১৯ বছরের গণতন্ত্রের তালিকায় ১৬৫ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ছিল ৮০তম।

২০২০ সালের তালিকায় বাংলাদেশ চার ধাপ এগিয়ে ৭৬তম অবস্থানে রয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, বিশ্বের ১৬৫টি দেশের ওপর করা এই তালিকায় বাংলাদেশের মতো মিশ্র শাসন রয়েছে ৩৫টি দেশে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় গণতন্ত্রের বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা।

তালিকায় ভারতের অবস্থান ৫৩তম আর শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৬৮তম।

ভূটান রয়েছে ৮৪তম অবস্থানে, নেপাল ৯২তম, পাকিস্তান ১০৫তম, মিয়ানমার ১৩৫তম অবস্থানে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া ভূটান, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কা ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ পায়নি।

ট্রাম্পের সম্মানসূচক ডিগ্রি কেড়ে নিল বিশ্ববিদ্যালয়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বিদায়ী রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া সম্মানসূচক ডক্টরেট বাতিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ৩২  বছর আগে ট্রাম্পকে দেওয়া ডিগ্রি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থকরা মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটনের ডিসি-তে হামলা চালানোর দুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে। জো বিডেন কিছুদিনের মধ্যেই নতুন মার্কিন রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেবেন। ট্রাম্পের যুগ সেদিন থেকে শেষ হবে। ট্রাম্প এমন একটি খবর পেয়েছিলেন।

কম্পিউটার চুরির ঘটনায় সাবেক যুবলীগ গ্রেপ্তার

পেনসিলভেনিয়ার লেহি ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ড গত শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে। তবে মার্কিন মিডিয়া যখন সিএনএনকে লেহিঘ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি প্রত্যাহার সম্পর্কে বিশদ জানতে চাইলে একাডেমী কোনও মন্তব্য করেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৮৮ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার অধ্যাপক জেরেমি লিট্যাও একটি টুইটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তকে "বড় পদক্ষেপ" বলে বর্ণনা করেছিলেন। "আমাদের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের চাপের পাঁচ বছর পর অবশেষে লিহাই বোর্ড অব ট্রাস্টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানসূচক ডিগ্রি ফিরিয়ে দিয়েছে," তিনি টুইট করেছেন।



ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকরা বুধবার ওয়াশিংটন, ডিসির ইউএস কংগ্রেসনাল ক্যাপিটালকে ঘিরে ধরেছিলেন। এতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। সহিংসতার দু'দিন পরে বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি জন ডি সাইমন একটি বিবৃতিতে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "এটি আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তিটির জন্য একটি সহিংস আঘাত।


সাঈদ খোকনের ‘মানহানিকর বক্তব্যে’ আইনি ব্যবস্থা নেবেন তাপস


দায়িত্বরত শেখ ফজলে নূর তাপস তার বক্তব্যকে মানহানিকর বলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার সকাল সোয়া ১১ টায় রাজধানীর মানিকনগর এলাকায় স্লুইসগেট ও পাম্প হাউস পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।


তাপস বলেছেন, ‘অবশ্যই তিনি (সাঈদ খোকন) মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। তিনি নিজেকে চুনাপাথরের দুর্নীতিবাজ বলে স্বীকার করেছেন। এবং আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরিখে এটি অবশ্যই মানহানিকর হয়েছে। আমি অবশ্যই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারি।

সিরাজকে ‘বানর’ ডাকা দর্শকদের বের করে দেওয়া হলো | আমি ‘লাস্ট’ হতে খেলব না

তিনি আইনানুগ পদক্ষেপ নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তাপস বলেছিলেন, "আমরা যদি মানহানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই, আমাদের আইনী পদক্ষেপ নিতে হবে। তাপসকে দেওয়া ব্যাখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি যোগ করেছিলেন, "গতকাল জাতির স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের জনক ছিলেন। এর আগে ৯ ই নভেম্বর আমরা লক্ষ্য করেছি যে তিনি (সাঈদ খোকন) একটি সভা ডেকেছিলেন এবং আমার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আমি মনে করি এটি প্রকাশ তার ব্যক্তিগত ক্ষোভের কথা।



শনিবার বিকেলে হাইকোর্ট এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে প্রাক্তন মেয়র মোহাম্মদ সা সাঈদ খোকন শেখ তাপসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। সাঈদ  খোকনের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে রবিবার তাপস বলেছিলেন, "কেউ যদি ব্যক্তিগত বিরক্তি থেকে কিছু বলেন তবে আমি দায়বদ্ধ পদ থেকে এর জবাব দেওয়া ঠিক মনে করি না।" শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ ফজলে নূর তাপস এ কথা বলেন।

নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাইবার হামলা | ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধন

তাপস বলেছিলেন, "আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বা আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনও অভিযোগ করি নি। অবৈধভাবে দখল করা জায়গা দখলকারী ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা অর্থের লেনদেন করেছেন। এখন তিনি আমার উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। আমি ভেবে দেখুন এটি খুব অপ্রয়োজনীয়। 'তিনি কেবল এই ক্ষেপে এই বিষয়গুলি উত্থাপন করছেন।'

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবনে ট্রাম্প–সমর্থকদের হামলা, নিহত ৪

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ জাতীয় ঘটনা নজিরবিহীন। দেশটির আইনসভা বা সংসদ, ক্যাপিটল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকদের দ্বারা আক্রমণ করা হয়েছে। এর পরে গত নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বিডেনের জয়কে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ভবনে কংগ্রেসের একটি যৌথ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ভবনের জানালাগুলি ভেঙে দিয়েছে। এবং সেই সাথে তিনি পুলিশকে আক্রমণ করেছিলেন। র‌্যাডিক্যাল রাবলিলকে বহিষ্কার করার জন্য পুলিশ পুরো বিল্ডিংটিকে ঘিরে রেখেছে। গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। আগুন লেগে যাচ্ছে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে



নবনির্বাচিত মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বিডেন এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ক্যাপিটলকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেনই। এই ঘটনার পরে, যৌথ অধিবেশন স্থগিত করা হয়। তবে রাতে আবার শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আগে, ডেমোক্র্যাটস জর্জিয়ায় দুটি সিনেটের আসন জিতেছিলেন। ফলস্বরূপ, সিনেট ডেমোক্র্যাটদের হাতে পড়ে। দুই ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী, রাফেল ওয়ার্নক এবং জন ওসফ সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন।



রাজধানীতে হামলার পরে বিশ্ব নেতারা একের পর এক বার্তায় এর তীব্র নিন্দা করেছেন। রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিজেই এই ঘটনা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। "এটি একটি কুরুচিপূর্ণ দিন," নেব্রাসকার রিপাবলিকান সেন বেন স্যাসি বলেছিলেন।

ট্রাম্পকে কি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরানো হবে



পোল্যান্ডের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদেক সিকোরস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে "উন্মাদ" বলেছেন এবং রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সংসদে ইইউ-মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান। যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকায় এটি তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন ক্যাপিটালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকদের হামলার পরে সিকোরস্কি এক টুইট বার্তায় এই আহ্বান জানিয়েছেন। পোলিশ রাজনীতিবিদ দেশটির মন্ত্রিসভাকে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মার্কিন সংবিধানের ২৫ তম সংশোধনী ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কেবল সিকোরস্কিই নয়, ২৫ তম সংশোধনীটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থেকে  সরিয়ে দেওয়ার কথা উঠেছে । বিবিসির এক প্রতিবেদনে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে ২৫ তম  সংশোধনীর কার্যকর করার বিষয়ে মার্কিন মন্ত্রিসভায় আলোচনা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ২৫ তম সংশোধন কী?



মার্কিন সংবিধানের এই সংশোধনীর অধীনে, যদি রাষ্ট্রপতি তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে অক্ষম বলে মনে করেন, তবে একজন নতুন ব্যক্তিকে সেই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে এটির জন্য বেশিরভাগ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সহ-সভাপতি মাইক পেন্সের সম্মতিও প্রয়োজন। পেনস ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হবেন সে বিষয়ে তারা কংগ্রেসে এই মর্মে চিঠি লিখবেন। কারণ, ট্রাম্প এই দায়িত্ব পালনে অক্ষম।

১৯৬৭ সালে মার্কিন সংবিধানে এই সংশোধনী আনা হয়েছিল। তবে এটি এখনও কার্যকর করা হয়নি।



এখনও পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সের কাছে এ জাতীয় অনুরোধ করা হয়নি। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেউ কেউ পেন্সকে ২৫তম  সংশোধনী বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যানুফ্যাকচারার্সের প্রধান, এনএএসিপির প্রধান এবং ভার্মন্টের রিপাবলিকান গভর্নর রয়েছেন।


যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget